'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' বা 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ফয়সালা হওয়ার আগেই ফের দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ইতোমধ্যেই আপত্তি তুলেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। শনিবার দুর্গাপুর নগর নিগমের সীমানা বিন্যাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয় দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের দপ্তরে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্গাপুর নগর নিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, দুর্গাপুর নগর নিগমের বর্তমানে রয়েছে ৪৩ টি ওয়ার্ড। ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৩টি বৃদ্ধি করে ৫৩ টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, যে ১০-টি ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলি কীসের ভিত্তিতে হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে। তিনি বলেন, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় তিন লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এঁদের মধ্যে বেশ কিছু মানুষের নাম ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালেও এসেছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ভোটার তালিকা কে অসম্পূর্ণ বলেই মনে করে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। তাই ভোটার তালিকা সংশোধন করার পরই সীমানা বিন্যাসের বিষয়ে আলোচনা হলে তবেই তা সম্পূর্ণ বৃত্ত পূরণ করবে বলে মনে করেন দেবেশ বাবু। এ ব্যাপারে সিপিআইএমের পক্ষ থেকে বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী জনসংখ্যাকেই এখানে বিচার্য এবং একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে রাখা হয়েছে।এবং সেই অনুযায়ী ২০২৬ সালের সীমানা বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। অথচ রাজ্যে এই মুহূর্তে জনগণনার কাজ চলছে। আশা করা যায় আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই সেই জনগণনার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ২০১১ সালের জনসংখ্যাকে ধরে জনবিন্যাস এবং সীমানা বিন্যাস করা হলে সেক্ষেত্রে বিশাল বড় ত্রুটি থেকে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রকৃত জনসংখ্যার ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।প্রকৃত জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলেই তা ত্রুটিমুক্ত হবে বলে মনে করে সিপিআইএম। এবং দলের পক্ষ থেকে সেই অনুযায়ী প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবও দেওয়া হবে বলে জানান বিশ্বরূপ বাবু। প্রায় একই সুরে এই জনবিন্যাস প্রক্রিয়ার কিছুটা সমালোচনা করেন তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করে দেখা হবে কোথায় কীসের ভিত্তিতে এই জনবিন্যাস করা হল, ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি যে নীতির ভিত্তিতে করা হচ্ছে তার বাস্তবতা নিয়েও দলের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান উজ্জ্বল বাবু। যদিও জাতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে যে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল। তিনি বলেন, রাজ্যের রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের কোন প্রাসঙ্গিকতাই নেই। এই ধরণের কিছু বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে তাঁরা রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করছেন। আগামী পুর নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই দুর্গাপুর নগর নিগমের শাসন ক্ষমতায় আসবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে দাবী করেন সুমন্ত বাবু। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দুর্গাপুর নগর নিগমের ৪৩টি ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫১৭ জন। দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে রয়েছে মোট ২১২টি বুথ। অন্যদিকে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে রয়েছে ৩০৬ টি বুথ। দুটি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৫১৮-টি বুথ রয়েছে দুর্গাপুর নগর নিগম সীমানার মধ্যে। নতুন ডিলিমিটেশন বা সীমানা বিন্যাসে নতুন কোন এলাকার সংযুক্তি ঘটানো হচ্ছে না। অর্থাৎ ৪৩ টি ওয়ার্ডের জন্য পূর্বের মানচিত্র যা ছিল, সেই মানচিত্রকে অটুট রেখেই ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক স্তরে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলিকে আগামী ৫-ই অক্টোবরের মধ্যে সীমানা বিন্যাস সম্পর্কিত কোন পরামর্শ, আপত্তি বা কোন প্রস্তাব থাকলে তা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া বৈঠকের পরেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রায় প্রত্যেক দলেরই প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
DMC-র সীমানা বিন্যাস! সর্বদলীয় বৈঠক প্রশাসনিক স্তরে!
DMC-র সীমানা বিন্যাস! সর্বদলীয় বৈঠক প্রশাসনিক স্তরে!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
DMC-র সীমানা বিন্যাস! সর্বদলীয় বৈঠক প্রশাসনিক স্তরে! — ছবি: নিউজ১।