ধর্মকে এক সময় আফিম এর সাথে তুলনা করতেন সিপিএম সহ অন্যান্য বামপন্থী দলের নেতানেত্রীরা। তাই প্রচলিত অর্থে পুজো পার্বণ ইত্যাদির বিরোধী ছিলেন তাঁরা। এমনকি বাহ্যিক ধর্মাচরণেরও তীব্র সমালোচনা করে মন্দির, মসজিদ, গুরুদুয়ারা ইত্যাদি এড়িয়ে চলতেন তাঁরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেমন সব কিছুরই পরিবর্তন হয়, তেমনই ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসী বামপন্থীদেরও মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছে। হয়তো সেই পরিবর্তিত ভাবনা থেকেই সিপিএম এর শ্রমিক সংগঠন 'সিআইটিইউ' বা 'সিটু' অনুমোদিত পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরাসরি বিশ্বকর্মার আরাধনা শুরু করা হল। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁদেরই দলীয় কার্যালয়ে রীতিমত মন্ডপ তৈরি করে বিশ্বকর্মার পুজো শুরু হল! আর এই বিষয়টিকে নিয়েই তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল তীব্র শ্লেষাত্মক সুরে বলেন ‘শূন্য থেকে মহাশূন্যে যাওয়ার আগে ভগবানের শরণাপন্ন হচ্ছেন বামপন্থীরা। যাঁরা একসময় দেব দেবীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন না, আজ তাঁরাই বিশ্বকর্মার পুজো করছেন। এটাই এ রাজ্যে আসল পরিবর্তন'।
সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, রাজনৈতিকভাবে ‘শূন্য থেকে মহাশূন্যে’ যাওয়ার আগে বামপন্থীরা এখন ভগবানের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে বামপন্থীরা দুর্গাপুজোও করবেন এবং পরবর্তীতে ভগবান শ্রী রামের পুজো করতেও বাধ্য হবেন তাঁরা।বিজেপি জেলা মুখপাত্রের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। বিশ্বকর্মা পুজোর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বামপন্থীদের অবস্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েই মূলত কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে সিপিএম নেতা সিদ্ধার্থ বসু পাল্টা বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু অনুমোদিত পরিবহন কর্মী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকর্মা পুজো করতেন। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ওই শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়টি তৃণমূল দখল করে নিয়েছিল। তাই তখন পরিবহনকর্মীরা অন্যত্র পুজো করতেন।সম্প্রতি কার্যালয়টি পুনর্দখল পেয়েছে সিটু অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব।তাই এ বছর শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের বাইরেই পুজো হচ্ছে। তাছাড়া সিপিএমকে বিজেপির কাছ থেকে ধর্ম সম্পর্কে কোন কিছু শিখতে হবে না! রাজ্যের মানুষের এই চার মাসেই বিজেপি সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়েছে। এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে তাঁরা কী ভুল করেছেন! আগামী দিনে কে মহাশূন্যে যায় সেটাই দেখতে হবে বিজেপিকে। কারণ সারাদেশ জুড়েই তাদের যা অবস্থা, তাতে মানুষ খুব শীঘ্রই তাদেরকে কেন্দ্র এবং এ রাজ্য থেকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন'। উল্লেখ্য, অনেকেরই স্মরণে থাকতে পারে রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী ও সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী স্বয়ং একসময় তারাপীঠ মন্দিরে গিয়ে মা তারার পুজো দিয়েছিলেন। ওই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সে সময় রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এমনকি প্রয়াত মন্ত্রীকে তীব্র ভৎর্সনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁর নিজের দলেরই উচ্চ নেতৃত্বের কাছে। সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। এর মধ্যেই এ রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছেন বামেরা।হয়তো সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতেই নতুন করে সরাসরি পুজো আর্চা ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ফিরে আসতে চাইছেন তাঁরা।তাই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পুরোটাই ভোটের স্বার্থে এখন নতুন করে চৈতন্যোদয় ঘটল তাঁদের !
CITU- অফিসে বিশ্বকর্মা পুজো! তীব্র কটাক্ষ বিজেপি নেতৃত্বের!!
CITU- অফিসে বিশ্বকর্মা পুজো! তীব্র কটাক্ষ বিজেপি নেতৃত্বের!!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
CITU- অফিসে বিশ্বকর্মা পুজো! তীব্র কটাক্ষ বিজেপি নেতৃত্বের!! — ছবি: নিউজ১।