গ্রামের ভিতর দিয়ে অনবরত যাতায়াত করছে কয়লা বোঝাই বিশাল বিশাল ডাম্পার লরি সহ অন্যান্য যানবাহন। অনবরত ওইসব ভারি ভারি যানবাহন যাতায়াত করার ফলে গ্রামের কাঁচা রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। জায়গায় জায়গায় রাস্তাটি ভেঙেচুরে গিয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই গ্রামবাসীদের আশঙ্কা,অপরিসর রাস্তায় ডাম্পার বা লরি পাল্টি খেয়ে যেতে পারে। লরি ডাম্পার চলাচলের কারণে সারাদিন ধরেই উড়ছে ধুলো, কয়লার গুঁড়ো, কালি সহ অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক পদার্থ। ফলে গ্রামবাসীদের জীবন এই মুহূর্তে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে রাজ্যের পূর্ত দপ্তর নির্মিত এই রাস্তাটির সম্পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে শনিবার শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নামলেন গ্রামের মহিলারা। দিপালী রুইদাস, বীণা রুইদাস সহ গ্রামের বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ মহিলা অভিযোগ করে বলেন, ইসিএল-এর কয়লা বোঝাই লরি, ডাম্পার চলাচলের কারণে প্রতি মুহূর্তে তাঁরা প্রবল আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। কারণ যে কোন সময় ওইসব লরি ডাম্পারের ধাক্কায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। সে কারণেই বাড়ির শিশু-কিশোরদের তাঁরা স্কুল পর্যন্ত পাঠাতে পারছেন না। দিপালী দেবীর অভিযোগ, ১০ ফুট চওড়া এই রাস্তা কখনোই অত বড় গাড়ি চলাচলের উপযোগী হতে পারে না। তাই অবিলম্বে ইসিএল- এর উচিত বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি গ্রামের ভেঙে যাওয়া রাস্তাটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারেরও দাবি জানান তাঁরা। বিক্ষোভের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ইসিএল-এর আধিকারিক মধুসূদন সিং। তিনি বলেন, প্রবল বর্ষার কারণে শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি থেকে যে পাকা সড়কটি সড়পি হয়ে কুমারডিহির দিকে চলে গিয়েছে, সেই রাস্তাটি পুরোপুরিভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। রাস্তাটি দ্রুততার সঙ্গে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে ইসিএল। আশা করা যায় শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই ওই সংস্কার কাজ শেষ হয়ে যাবে। ফলে রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের তৈরি এই রাস্তা দিয়ে কয়লা পরিবহণের জন্য ডাম্পার, লরি ইত্যাদি নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন হবে না। ইসিএল- আধিকারিকের এই আশ্বাসের পর বিক্ষোভ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
ECL-এর লরি চলাচলের ফলে রাস্তা বেহাল, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের!
ECL-এর লরি চলাচলের ফলে রাস্তা বেহাল, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
ECL-এর লরি চলাচলের ফলে রাস্তা বেহাল, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের! — ছবি: নিউজ১।