জমি নেই। নেই গ্যাসের সংযোগও। অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে একের পর এক সরকারি প্রকল্পের টাকা। কখনও PM-KISAN-এর কিস্তি, আবার কখনও গ্যাসের সাবসিডি। আর অভিযোগ, টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরই সেই টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
কাঁকসার বামুনাড়ায় এমনই অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেন ঘিরে আতঙ্কে একটি পরিবার। পরিবারের দাবি, তাঁরা নিজেরা এই টাকা তোলেননি। ফলে কে টাকা পাঠাচ্ছে এবং কে সেই টাকা তুলে নিচ্ছে—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য।
বীরভূমের হেতমপুরের বাসিন্দা সীমা দাস বর্তমানে ছেলে ও বৌমার সঙ্গে কাঁকসার বামুনাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর দাবি, গত দু’মাস ধরে ওয়েস্ট বেঙ্গল গ্রামীণ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে PM-KISAN-এর কিস্তির টাকা ঢুকছে।
কিন্তু সীমা দাসের দাবি, তাঁর নামে কোনও জমি-জায়গা নেই। ফলে কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পের টাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কীভাবে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি বিষয়। সীমা দাসের দাবি, তাঁর নামে কোনও গ্যাস সংযোগও নেই। অথচ তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে গ্যাসের সাবসিডির টাকা।
শুধু টাকা ঢোকাই নয়, অভিযোগ আরও গুরুতর। পরিবারের দাবি, ওই টাকা পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। অথচ তাঁরা নিজেরা সেই টাকা তোলেননি।
একই অ্যাকাউন্টে জমি ছাড়াই PM-KISAN-এর টাকা, গ্যাস সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও সাবসিডি—তারপর সেই টাকা আবার অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও। গোটা লেনদেনের হিসেব সামনে আসতেই কার্যত দিশেহারা পরিবার।
সীমা দাসের আশঙ্কা, এই সরকারি প্রকল্পগুলির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে এই লেনদেনের কারণে তাঁদের কোনও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে কি না।
সীমা দাসের কথায়, “আমি খুব চিন্তার মধ্যে রয়েছি। এইভাবে টাকা ঢুকছে, আবার তুলেও নেওয়া হচ্ছে। তাতে আমার ভয়ও বাড়ছে। আমাকে কি পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, সেই নিয়েই আমি খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছি।”
তবে এই টাকা কীভাবে অ্যাকাউন্টে আসছে, কোন সরকারি নথির ভিত্তিতে তা জমা পড়ছে এবং পরে কীভাবে সেই টাকা তোলা হচ্ছে—তার উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
অস্বাভাবিক এই লেনদেনের পিছনে প্রযুক্তিগত ভুল, ব্যাংকিং সংক্রান্ত সমস্যা, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা তদন্ত ও নথি যাচাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে।
জমি নেই, গ্যাস নেই—তবুও সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকছে। আবার সেই টাকাই অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ। কাঁকসার এই অস্বাভাবিক লেনদেনের আসল রহস্য কী, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার।