আবারও বিকট শব্দ! কেঁপে উঠল গোটা এলাকা, আর চোখের সামনে বসে গেল মাটি।
দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টির মধ্যেই নিউ কেন্দায় ফের ধস। ধসের পরিধি ক্রমশ বাড়তে থাকায় আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন বাউরীপাড়ার বাসিন্দারা। অভিযোগ, বারবার ধস নামলেও স্থায়ী সমাধান নেই। ঘটনাস্থলে ECL-এর কোনও আধিকারিক না পৌঁছনোর অভিযোগে আরও বাড়ছে ক্ষোভ।
ঘটনাটি জামুড়িয়ার নিউ কেন্দা তিন নম্বর বাউরীপাড়ার মা মনসা মন্দির সংলগ্ন এলাকার।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ হঠাৎ জোরালো শব্দ শোনা যায়। এরপরই মাটি বসে গিয়ে ধস নামে। টানা বৃষ্টির মধ্যে নতুন করে ধস নামায় আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
ঘটনার পরও ECL-এর কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর তা নিয়েই তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
স্থানীয় বাসিন্দা রামকৃষ্ণ বাউরীর অভিযোগ, ECL কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই ধসপ্রবণ এলাকায় বহু পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে।
তাঁর দাবি, ধসপ্রবণ এলাকার ১৪৪টি পরিবারকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর না হওয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
অবিলম্বে ধস এলাকার আশপাশে থাকা পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
বাউরী সমাজ শিক্ষা সমিতির হরেকৃষ্ণ বাউরী জানান, প্রায় দুই বছর আগে এই মনসা মন্দিরের কাছে প্রথম ধস নেমেছিল। এরপর এবার নিয়ে মোট তিনবার ধস নামার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাঁর।
তাঁর অভিযোগ, প্রতিবারই ধস এলাকার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দায় সেরেছে ECL। ধস এলাকার কাছে থাকা কয়েকটি পরিবারকে ইস্ট কেন্দা ECL আবাসনে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হলেও, তাঁদের সঠিক ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এখনও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ECL-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের প্রতিবাদে আগামী দিনে জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হরেকৃষ্ণ বাউরী।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ক্রান্তি বাউরীর দাবি, ধসের স্থানটির পাশ দিয়েই রয়েছে এলাকার মূল রাস্তা। প্রতিদিন বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। কাছেই রয়েছে একটি ফুটবল মাঠ, যেখানে শিশুরাও যাতায়াত করে।
ফলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাঁর আরও দাবি, ধসের গর্তের ভিতর থেকে এখনও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফলে আতঙ্ক আরও বাড়ছে এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত ধসপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
আবারও বিকট শব্দ, বসে গেল মাটি! নিউ কেন্দায় ফের ধস!!
আবারও বিকট শব্দ, বসে গেল মাটি! নিউ কেন্দায় ফের ধস!!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
আবারও বিকট শব্দ, বসে গেল মাটি! নিউ কেন্দায় ফের ধস!! — ছবি: নিউজ১।