শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ ৩০°C (হালকা বৃষ্টি)
বাজার দর
জরুরি খবর
আপনার এলাকার বনেদি বাড়ি ও প্রাচীন দূর্গাপূজা থাকলে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন - 8942027988/9647614412 একাধিক বিষয় নিয়ে সার্কিট হাউজে বৈঠকে মন্ত্রী ও ডিসি ট্রাফিক অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবায় যুক্ত হল নতুন দুই ফায়ার টেন্ডার !! আজকের রুপোর দাম: কলকাতায় সর্বশেষ রুপোর রেট (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আজকের সোনার দাম: কলকাতায় ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার রেট (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আরও এগোল নিম্নচাপ, বুধবারই আছড়ে পড়বে উপকূলে! পুরী থেকে আর কত দূরে? ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দক্ষিণের ৬ জেলায় আইনজীবীর কালো কোর্টে ডিম! প্রতিবাদে পথে আইনজীবীরা কলকাতা/দুর্গাপুর প্রবল বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শিল্পাঞ্চলে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বামেদের ডেপুটিশন পূর্ত দপ্তরে!! বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ, DPL গেটে BJPর বিক্ষোভ!! আপনার এলাকার বনেদি বাড়ি ও প্রাচীন দূর্গাপূজা থাকলে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন - 8942027988/9647614412 একাধিক বিষয় নিয়ে সার্কিট হাউজে বৈঠকে মন্ত্রী ও ডিসি ট্রাফিক অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবায় যুক্ত হল নতুন দুই ফায়ার টেন্ডার !! আজকের রুপোর দাম: কলকাতায় সর্বশেষ রুপোর রেট (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আজকের সোনার দাম: কলকাতায় ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার রেট (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আরও এগোল নিম্নচাপ, বুধবারই আছড়ে পড়বে উপকূলে! পুরী থেকে আর কত দূরে? ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দক্ষিণের ৬ জেলায় আইনজীবীর কালো কোর্টে ডিম! প্রতিবাদে পথে আইনজীবীরা কলকাতা/দুর্গাপুর প্রবল বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শিল্পাঞ্চলে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বামেদের ডেপুটিশন পূর্ত দপ্তরে!! বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ, DPL গেটে BJPর বিক্ষোভ!!
প্রচ্ছদ অন্যান্য বিস্তারিত সংবাদ

হীরাপুরের 'কর্মকার বাড়ি'র মহাপুজোয় আজও কথা কয় অনাদি অতীত!

হীরাপুরের 'কর্মকার বাড়ি'র মহাপুজোয় আজও কথা কয় অনাদি অতীত!

নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন

ইতিহাসের তুলোট পাতায় বিবর্ণ হয়ে যাওয়া  এক রক্ত ঝরা কাহিনী নিয়ে আজও কালো তালিকাভুক্ত হয়ে আছে যে সময়কাল, সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে অস্তমিত হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতা সূর্য ।বাঙালির খুনে রাঙা হয়েছিল ক্লাইভের খঞ্জর। ভারত মাতা শৃঙ্খলিত হওয়ার সেই কান্না ঝরা দিনগুলোতেই সূচনা হয়েছিল তৎকালীন হীরাপুর গ্রামে দেবী মহামায়ার মহাপুজোর। বর্ষপঞ্জির হিসেবে ২৬৯ বছর আগে পেরিয়ে আসা সেই অতীত কাহিনী আজও যেন জীবন্ত হয়ে আছে হীরাপুর গ্রামের কর্মকার পরিবারের সেই ঐতিহ্যমন্ডিত দেবী দুর্গার পুজোর বহিরঙ্গ জুড়ে। ঐতিহাসিক পুঁথি হাতড়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই কর্মকার পরিবারের তৎকালীন গৃহকর্তা নন্দলাল কর্মকার দামোদর নদে স্নান করতে গিয়ে বালুচরে কুড়িয়ে পান একটি ঘট। ঘটটি তিনি পরম ভক্তিভরে সযতনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। তারপর তৎকালীন পণ্ডিতদের পরামর্শে তিনি ঘটটি প্রতিষ্ঠা করেন দেবী দুর্গতিনাশিনী রূপে। 'ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'র নাগপাশে বন্দী ভারতমাতার যেন মুক্তি ঘটল এই পরিবারের দেবী  দুর্গতিনাশিনীর অভিষেকের মধ্য দিয়েই। দামোদর রূপী স্বয়ং নারায়ণের মহাদান সেই ঘট দেবী রূপে প্রতিষ্ঠিত হল কর্মকার পরিবারের অলিন্দে। দেবী প্রতিমার কোন মূর্তি না থাকলেও সেই ঘটকেই দেবীরূপে কল্পনা করে শুরু হল পূজার্চণা। কর্মকার পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম দেব মন্দির বলে দুর্গার এই মন্দিরকে 'আদি মন্দির' হিসেবে আজও মেনে চলা হয়। পরিবারের বর্তমান কর্তা নিমাই চন্দ্র কর্মকার জানালেন, তাঁরা গত ৮০- ৮৫ বছর যাবৎ দেবীর মূর্তি গড়ে দুর্গার আরাধনা  শুরু করেছেন। তার আগে পর্যন্ত ঘটেই মা মহামায়ার পুজো সম্পন্ন হত। এ পরিবারে মা বৈষ্ণবী। কোন পশুবধ এই পরিবারের পুজোয় হয় না। প্রতিবছর একই নিয়মে সাবেকিয়ানার ছাঁচে নির্মিত হয় দেবীর সন্তান সহ এক চালার প্রতিমা। অপরূপ ডাকের সাজে সাজানো হয় সেই একচালার দেবী প্রতিমাটি। ফলমূল, মিষ্টান্ন ইত্যাদি নৈবেদ্যর পাশাপাশি মন্দিরেই বাড়ির মহিলারা ধান থেকে তৈরি করেন এক ধরণের খই।সেই খই দেওয়া হয় দেবীর ভোগ হিসেবে। একইসঙ্গে চালগুঁড়ো দিয়ে প্রস্তুত হয় 'আরশে' নামক বিশেষ এক ধরনের পিঠে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত এই একই নৈবেদ্য প্রতিদিনই দেবীর সামনে নিবেদন করা হয়। নিমাইবাবুর দাবি, এই পরিবারের প্রতিমার মধ্যে রয়েছে এক অলৌকিক বিশেষত্ব। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই দেবীর মুখমণ্ডলে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ। যাঁরা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেবীর সেই ভুবন ভোলানো মূর্তি অবলোকন করেন, তাঁরাই কেবল দেবীর এই বদলে যাওয়া মূর্তির রূপ দেখতে পান। নিমাই বাবু বলেন, তাঁরা  কর্মকার সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ চন্ডি কর্মকার স্বহস্তে দেবীর পুজো করতেন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন ব্রাহ্মণ পূজারী দ্বারা এ পরিবারের দেবীর পুজো সম্পন্ন হত না। চন্ডি কর্মকার প্রয়াত হওয়ার পর ব্রাহ্মণ পূজারীরা বৈদিক মতে দেবীর পূজার্চণা করে থাকেন। শিবপদ কর্মকার নামে এ পরিবারেরই বর্তমান এক সদস্য বলেন, কর্মকার বংশে রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি শরিকী পরিবার। তাঁদের সকলের মিলিত আর্থিক আনুকূল্যে দেবী পূজার ব্যয় নির্বাহ হয়ে থাকে। পুজোর আগেই সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমনকি বিদেশ থেকেও আত্মীয়রা এসে পৌঁছন এই পুজোয় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। সেই অর্থে প্রতিবছর দেবী দুর্গার পুজো উপলক্ষে হীরাপুরের এই কর্মকার পরিবারে বসে এক মহামিলন মেলা। পরিবারের এক কিশোরী সদস্য জানায়, পুজোর কয়েকদিন তারা রাত দিন ব্যস্ত থাকে নানান কাজে। বাড়ির মা ঠাকুমারা ধান থেকে খই তৈরি, আরশে পিঠে সহ অন্যান্য মিষ্টান্ন তৈরি ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন। শুধু এ পরিবারেরই নয়, দূর দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই পারিবারিক দুর্গোৎসবে এসে যোগ দেন। নিমাইবাবু জানান, তাঁদের এই মন্দির থেকেই দেবীর পুজোয় ব্যবহৃত নানান উপচার দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রোগের ওষুধ দেওয়া হয় ভক্তদের। যাঁরা ভক্তি ভ'রে দেবীর দেওয়া সেই ওষুধরূপী অনুপান গ্রহণ করেন,তাঁদের শুধু রোগ মুক্তিই ঘটে এমনই নয়, সন্তানহীনা নারীও সন্তানবতী হন, বহু দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি লাভ ঘটে ভক্তদের।

সম্পর্কিত ট্যাগ: #পশ্চিমবঙ্গ ##দৈনিক খবর

আপনার সংরক্ষিত খবর