মেডিকেল কলেজ মানে কতগুলি ইঁট, সিমেন্ট বা কতগুলি যন্ত্রের সমাহার নয়। মেডিকেল কলেজ মানে অসংখ্য প্রতিশ্রুতির এক পবিত্র পীঠস্থান। মেডিকেল কলেজ মানে আগামীর একগুচ্ছ প্রতিজ্ঞা, যে প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে শুধু চিকিৎসা শাস্ত্রের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, মেডিকেল কলেজ মানে ঈশ্বরের প্রতিনিধি তৈরীর এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সোমবার দুর্গাপুরের বিধাননগরে 'এসকেএস গ্রুপের' একটি নতুন মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অন্যান্য পেশার সাথে চিকিৎসার পেশার সম্পূর্ণ এক বিপরীত ও ভিন্নধর্মী অবস্থান রয়েছে। মহান এই পেশায় চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রতি গভীর জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজন মানবিক চেতনারও। কারণ একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহারেই একজন রোগীর জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট বা আইন কলেজের সাথে মেডিকেল কলেজকে গুলিয়ে দিলে চলবে না। ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রয়ে গিয়েছে অসংখ্য ফাঁক ফোকর ও গলদ। সেই ত্রুটি গুলিকে শুধরে নিয়েই আগামী পথ চলার শপথ নিতে হবে আমাদের প্রত্যেককেই। রাজ্যের বেশ কিছু চিকিৎসকদের সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় আগে থেকেই খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন সন্দেহভাজন চিকিৎসকরা। ফলে সন্দেহভাজন চিকিৎসকরা সতর্ক হয়ে পালাচ্ছেন।এরপরই উঠে আসে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবক্ষয় নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ। এই অবক্ষয়ের জন্য শুধুমাত্র তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি,ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবেই এই অবক্ষয় চলে আসছে। তাই তৃণমূল সরকারকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল দুই সময়কালেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবক্ষয় হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল হয়েছে। সেই পরিস্থিতি ঠিক করার কাজ বর্তমানে শুরু হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম বলেন, বর্তমানে শিক্ষার মান বজায় রাখাটাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ব্লাড ব্যাংক নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের মাঝেই বড় দাবি স্বাস্থ্যকর্তার। তিনি বলেন, কোনও পরিষেবাই বাতিল করা হয়নি, ব্লাড ব্যাংকে কোনও অসুবিধাও নেই। চলছে পুনর্নবীকরণের প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যেমন নিয়ম মেনে পুনর্নবীকরণ করা হয়,এক্ষেত্রেও তেমনটাই হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। শুধু ব্লাড ব্যাংকই নয়, রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক দাবি উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২৬টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। আরও কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। বালুরঘাট ও কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজও শুরু হওয়ার মুখে বলে দাবি করেন। চিকিৎসা শিক্ষার ইতিহাসে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, 'আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প' দ্রুত গতিতে রূপায়িত হচ্ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এই পরিষেবার আওতায় আসছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত কাজও জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, দুর্গাপুরের দুই বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও লক্ষ্ণণ চন্দ্র ঘোড়ুই।ছিলেন প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকবৃন্দও।
দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী !
দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী !
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ! — ছবি: নিউজ১।