একদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুঠোফোনের প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি, অন্যদিকে বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে আগামী প্রজন্মকে পঠন-পাঠনের দিকে উৎসাহিত করতে এবং আবাসিকদের সুপ্ত সাহিত্যপ্রতিভাকে প্রকাশ্যে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিল দুর্গাপুরের বামুনারা তপবন সিটির বনবীথি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হল বনবীথির বিশেষ স্মরণিকা। আবাসিকদের উদ্যোগে প্রকাশিত এই স্মরণিকায় স্থান পেয়েছে সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন দিক। দীর্ঘদিন লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নানা কারণে যাঁদের কলম থমকে গিয়েছিল, তাঁদেরও নিজেদের ভাবনা ও সৃষ্টিশীলতা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই উদ্যোক্তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
শুধু সাহিত্যচর্চাই নয়, আবাসিকদের দৈনন্দিন জীবনেও এই স্মরণিকা যাতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। স্মরণিকায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা ও জরুরি পরিষেবার ফোন নম্বরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ, এই আবাসনের অধিকাংশ বাসিন্দাই ষাটোর্ধ্ব। তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্মরণিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাঁকসার বিডিও সৌরভ গুপ্ত, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডক্টর ত্রিপুরা বসু-সহ আবাসনের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার প্রসার, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করা এবং প্রবীণ আবাসিকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বনবীথির এই উদ্যোগ দুর্গাপুজোকে দিয়েছে এক বিশেষ সামাজিক মাত্রা। শুধুমাত্র প্রতিমা দর্শন কিংবা উৎসব উদ্যাপন নয়, পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একসূত্রে বাঁধার এই প্রচেষ্টাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।