জীবনের প্রতিটি চলার পথেই পেয়েছেন প্রতিকূলতার কন্টকাকীর্ণ বাঁক। কিন্তু স্রেফ মনের জোরেই সেইসব হার্ডলকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আজ বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর বাগনানের এই তরুণী। ইতিমধ্যেই 'লেডি হারকিউলিস' বিশেষণ ও সর্বনামে ভূষিত এই তরুণী এখন একটি একটি করে দিন গুনছেন আন্তর্জাতিক আসর থেকে সেরার সেরা পদক খানি ছিনিয়ে আনার। সারণী চট্টোপাধ্যায়। হাওড়ার বাগনানের চন্দ্রভাগ গ্রাম নিবাসী এই তরুণী ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন কেবলমাত্র শক্তপোক্ত মনের জোর টুকু যদি পুঁজি হিসেবে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন,সাফল্য লক্ষ্মী তাঁর কাছে ধরা দেবেই। আদতে আর পাঁচটা আটপৌরে বাঙালি গৃহবধুর মতই তাঁর সারা দিনের রোজনামচা। এরই মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রমী ভাবে তিনি সংসার, সন্তান সামলেও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়েই পাওয়ার লিফটিংয়ের অনুশীলন করে চলেন নিয়মিত। শৈশবে এবং তাঁর প্রথম মেয়েবেলার দিনগুলিতে প্রয়াত পিতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়েছেন হার না মানার এক দুর্দমনীয় পাঠ! নৃত্যশিল্পী পিতার কাছ থেকে পাওয়া জীবনের সেই অমূল্য শিক্ষাই এখন তাঁর জীবন তরী বেয়ে চলার অমূল্য প্রেরণা।হার মানতে তিনি শেখেননি। তাইতো ব্লক স্তর থেকে জেলা স্তর। সেখান থেকে রাজ্য। রাজ্যের বেড়া ডিঙিয়ে জাতীয় স্তরের মঞ্চেও তরতর করে উঠে গিয়েছেন প্রত্যেকটি সিঁড়ি। কখনো সোনা, কখনো অন্য কোন পদক জয় করে নিজের মুখের হাসি যেমন চওড়া হয়েছে একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে তিনি হয়ে উঠেছেন 'লেডি হারকিউলিস'। বাগনানের ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই বাগনান লাইব্রেরী মোড় সংলগ্ন রিং রোডের ধারে একটি জিমে পাওয়ার লিফটিং- এর প্রশিক্ষণ নেন সারণি। তবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগে তাঁকে প্রতিদিন নিয়ম করে যেতে হয় বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের শোরুমে। সেখানে প্রায় আট থেকে ন'ঘন্টা তাঁকে সেলস গার্ল এর কাজ করতে হয়। মা পায়ের সমস্যায় প্রায় শয্যাশায়ী। তাই সংসারের যাবতীয় ঝক্কি তাঁকে নিজেকেই সামলাতে হয়। একই সঙ্গে সামলাতে হয় অসুস্থ মা ও সন্তানের গুরু দায়িত্বও। আগামী ডিসেম্বর মাসে পাঞ্জাবের অমৃতসরে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক পাওয়ার লিফটিংয়ের মঞ্চে স্বর্ণপদক জয় করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন ছুটিয়ে চলেছেন তাঁর অশ্বমেধের ঘোড়া। ১৫০ কিলোগ্রাম ভারোত্তোলন বিভাগে জাতীয় স্তরেও পেয়েছেন স্বর্ণপদক। সেই দুর্লভ ধারাবাহিকতা বিশ্ব মঞ্চেও ধরে রাখতে চান তিনি। আপাতত সেই লৌহ সংকল্পকে পাথেয় করেই তাঁর প্রতিদিনের কঠোর সংগ্রাম। সারণির স্বর্ণজয়ের স্বপ্নের চারাগাছে প্রথম থেকেই সার,জল দিয়ে এসেছেন তাঁর কোচ মোর্শেদ মীর। আগামী ডিসেম্বরে পাঞ্জাবে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আঙিনা থেকেও যাতে বাগনানের এই তরুণী সোনার মেয়ে হয়ে ফিরে আসতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এখন দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে চলেছেন গুরু শিষ্যা দু'জনেই। কারণ আজ মানুষের দেওয়া শ্রেষ্ঠ শিরোপা 'লেডি হারকিউলিস' বিশেষণ তাঁর নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। সেই দুর্লভ সম্মান তিনি কোনভাবেই হারাতে চান না।
বিশ্বমঞ্চে সোনা জয়ের স্বপ্নে দুরন্ত ঘোড়া ছুটিয়েছেন বাগনানের 'লেডি হারকিউলিস' সারণি!!
বিশ্বমঞ্চে সোনা জয়ের স্বপ্নে দুরন্ত ঘোড়া ছুটিয়েছেন বাগনানের 'লেডি হারকিউলিস' সারণি!!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
বিশ্বমঞ্চে সোনা জয়ের স্বপ্নে দুরন্ত ঘোড়া ছুটিয়েছেন বাগনানের 'লেডি হারকিউলিস' সারণি!! — ছবি: নিউজ১।