মেঘলা আকাশ হলেই চিমনি দিয়ে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। খরচ কমাতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রেখে একাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভাটা থেকে দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। শিল্পশহরে দূষণের দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানোর খরচ বাঁচাতে কখনও কখনও সেই যন্ত্র বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। আর মেঘলা আকাশ কিংবা আকাশে মেঘের আস্তরণ থাকলে সেই প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ। দুর্গাপুর নগর নিগম এলাকার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্টেট ডায়েরি মোড় সংলগ্ন একটি ভাটা ঘিরে এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটার চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আশপাশের এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। ভাটার এক কর্মীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখার অভিযোগ। ওই কর্মীর দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মোটরের ক্ষতি এড়াতে এবং অতিরিক্ত খরচ কমাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পরিবেশের উপর এর প্রভাবের কথা জানা সত্ত্বেও কেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখা হবে? বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পরিবেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠছে একাংশের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর পর্যাপ্ত নজরদারি রয়েছে কি না, তা নিয়েও। ভাটা কর্তৃপক্ষ বলেন, “আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে দূষণ ছড়াই না। দূষণ নিয়ন্ত্রণের সমস্ত ব্যবস্থা মেনে চলা হয়। যন্ত্র বন্ধ রাখার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।” রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,
“তৃণমূল জামানার যে কুঅভ্যাস ছিল, সেই কুঅভ্যাস আর বরদাস্ত করা হবে না। পরিবেশের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যাবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি করেন,"দূষণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ভূমিকা নেওয়া হবে। মানুষের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষার জন্য যতদূর যেতে হয়, আমরা ততদূর যাব। কোথাও দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখার অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
খরচ বাঁচাতে দেদার দূষণ! মেঘলা আকাশ হলেই চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া!
খরচ বাঁচাতে দেদার দূষণ! মেঘলা আকাশ হলেই চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
খরচ বাঁচাতে দেদার দূষণ! মেঘলা আকাশ হলেই চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া! — ছবি: নিউজ১।