আচমকা ব্যাংক ধর্মঘটে রাজ্য জুড়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন কাজে ব্যাংকে আসা হাজার হাজার ব্যাঙ্ক গ্রাহক। শুক্রবার হঠাৎই 'ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস' এর পক্ষ থেকে একদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট ডাকা হয়। ধর্মঘটের ফলে দুর্গাপুর, আসানসোল, খনি শহর উখরা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ সারা রাজ্যেই চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্মীদের দাবি, পাঁচ দিনের সপ্তাহ অর্থাৎ শনি ও রবি এই দুদিন পূর্ণ দিবস ছুটির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি অফিসারদের সঙ্গে সাধারণ ব্যাংক কর্মচারীদের 'পারফরমেন্স ইন্সেন্টিভ' বা কর্ম উৎকর্ষতার ভাতা সমপরিমাণ করার দাবি জানানো হয়েছে। 'ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস'-এর অন্যতম আহ্বায়ক লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল বলেন, তাঁরা গত চার বছর ধরেই প্রত্যেক শনি ও রবি এই দু'দিন পূর্ণদিবস ছুটির দাবি জানিয়ে আসছেন। রিজার্ভ ব্যাংক সহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শনি ও রবিবার এই দুদিন ছুটি থাকে। কেবলমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলিতেই মাসে দুটি শনিবার পূর্ণদিবস তাঁদের কাজ করতে হয়।এই বৈষম্য অবিলম্বে দূর করার দাবিতে তাঁরা এদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। চলতি মাসেই ২৬,২৭ ও ২৮ এই তিন দিন ফের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবিগুলি মানা না হলে আগামী ১১ই অক্টোবর থেকে অর্থাৎ একেবারে দুর্গাপুজোর মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাংক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফোরামের সমস্ত ইউনিয়নগুলি। এদিকে প্রায় কোন রকম পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হঠাৎ করে ডাকা ব্যাংক ধর্মঘটের ফলে নাকালের একশেষ হয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে জরুরী কাজে ব্যাংকে এসে দেখেন ব্যাংকের শাটার বন্ধ। এদিকে আগামী কাল শনিবার, তারপরের দিন রবিবার। এই তিনদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হবে সোমবার অর্থাৎ ১৪ই সেপ্টেম্বর। পরপর তিনদিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেকেই চরম আর্থিক সমস্যায় পড়ে যাবেন বলে গ্রাহকদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে উখরা খনি অঞ্চলে একটি রাষ্ট্র ব্যাঙ্কে আসা ব্যাংক গ্রাহক রঘুনন্দন বার্নোওয়াল বলেন, তিনি জানতেন না আজকে ব্যাংক বন্ধ। এদিকে তাঁর বাড়িতে হঠাৎ করেই টাকার দরকার পড়ে গিয়েছে। একইভাবে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট না জেনেই আজ ব্যাংকে এসে হয়রানির শিকার হলেন চন্দ্রশেখর রায় চৌধুরী নামে এক প্রবীণ গ্রাহক। তিনি বলেন, পরপর তিনদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আবার অনেক জায়গায় গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এই দুদিনও ছুটি থাকার কথা। ফলে টানা বেশ কয়েকদিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে সারা রাজ্য সহ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। ব্যাক গ্রাহকদের চরম হয়রানির ছবি ধরা পড়েছে বাঁকুড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন এলাকাতেই। বহু জায়গায় মহিলারাও এসে দেখেন ব্যাংকের শাটার বন্ধ। ফলে তাঁরাও চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেকেরই আশঙ্কা, পরপর তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে আগামী সোমবার ব্যাংকে প্রচুর ভিড় হবে। ফলে সেদিন সমস্ত কাজ তাঁরা করে উঠতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
আচমকা ব্যাংক ধর্মঘটে চরম সংকটে গ্রাহকরা ! জনমানসে তীব্র ক্ষোভ !!
আচমকা ব্যাংক ধর্মঘটে চরম সংকটে গ্রাহকরা! জনমানসে তীব্র ক্ষোভ!!
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
আচমকা ব্যাংক ধর্মঘটে চরম সংকটে গ্রাহকরা ! জনমানসে তীব্র ক্ষোভ !! — ছবি: নিউজ১।