একই দিনে একই সময়ে মুখোমুখি দুই প্রতিপক্ষ দলের সমাবেশকে ঘিরে শুক্রবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হল দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে। সিটি সেন্টারের এডিডিএ- ভবনের সামনে আয়োজিত সিপিএমের সমাবেশ থেকে যখন মুহুর্মুহু উঠছে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ ধ্বনি', ঠিক তার উল্টোদিকেই তখন 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'র মঞ্চ থেকে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল শিল্প শহরের রাজনৈতিক আকাশ। এদিন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এক গণ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল সিপিএমের পক্ষ থেকে। তরুণ বাম নেতা শতরূপ ঘোষ, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ দলের প্রথম সারির নেতৃত্বের উপস্থিতিতে যখন একদিকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সামনে চলছে সমাবেশের কাজ, ঠিক তখনই বামেদের এই কর্মসূচিকে এক প্রকার বানচাল করতেই আসরে হাজির হন 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'র কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা কর্মী। বামেদের মঞ্চে শতরূপ ঘোষ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বক্তারা বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় যখন আক্রমণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনীর তরফে পাল্টা ঢাক-ঢোল সহযোগে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তুলে বামেদের এই সভাকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সম্প্রতি এ রাজ্যে এসে বাগেশ্বর ধামের সাধু ধীরেন্দ্রনাথ শাস্ত্রী বাঙ্গালীদের দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন আমিষ পদ ভোজন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে যান। বাঙ্গালীদের 'পাখন্ডী' অর্থাৎ 'ভন্ড' বলেও দাগিয়ে দিয়ে যান বাগেশ্বর বাবা। তাঁর ওই মন্তব্যের জেরে কালীঘাট তৃণমূল, সিপিএম,কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তীব্র ধিক্কার জানাতে শুরু করে। বহু জায়গায় সভা সমাবেশ করে বাগেশ্বর বাবার প্রতিকৃতিতে জুতোর বাড়িও মারা হয়।অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতারেরও দাবি জানানো হয় বিরোধীদের তরফে। বাগেশ্বর বাবাকে এ রাজ্যে অপমান করা হয়েছে এবং তাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন এ রাজ্যের বাম নেতারা, এমনই অভিযোগ তুলে এদিন পাল্টা রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনীর নেতা- নেত্রীরা। দলের তরফে শুভ্রা প্রসাদ সাহাবাবু অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সনাতনী সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করতে পথে নেমেছেন বামপন্থীরা। তাই তাঁরা পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বামপন্থীদের মোকাবিলা করতেই পথে নেমেছেন। শুভ্রদেবী বলেন, হিন্দু সংস্কৃতিকে আঘাত করা হচ্ছে। নানারকম ভাবে সনাতনী ভাব ধারার বদনাম করে বিশ্বের মাঝে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারই বিরুদ্ধে তাঁদের এই প্রতিবাদ সভা। এদিকে 'সিপিএম' ও 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'র মুখোমুখি স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের ফলে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দু' পক্ষের মাঝখানে একটি বড় রশি দিয়ে ব্যবধান তৈরি করার চেষ্টা করে পুলিশ। যদিও এরপরও দু'পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনে প্রবল বেগ পেতে হয় পুলিশকে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি বারবার দাবি করেছিল, তাঁরা ক্ষমতায় এলে রাজ্যকে সন্ত্রাসমুক্ত করবেন। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে বর্তমানে শাসক দলই সবথেকে বড় সন্ত্রাসী। বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শতরূপ বাবু বলেন, মানুষ যাঁদের বিরোধী আসনে বসানোর জন্য ভোট দিয়েছিলেন, সেই তৃণমূলেরই একটি অংশ মানুষের সঙ্গে চরম বেইমানি করে আজ ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন!ফলে ওই শিবিরের বিধায়করা কার্যত আজ রাজ্য সরকারেরই বকলেস পরা বিধায়কে পরিণত হয়েছেন। শাসকদলের হয়ে দালালি করছেন তাঁরা। রাজ্যের মানুষ বুঝতে পারছেন এই মুহূর্তে এ রাজ্যে বিজেপির প্রকৃত বিরোধী কারা! তাই মদন বাবুদের সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভালো! উনি রাজ্য সরকারের সমালোচনার বদলে নিজের দলেরই সমালোচনা করছেন! এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না!!
মুখোমুখি 'সিপিএম' ও 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'! উত্তেজনা দুর্গাপুরে
মুখোমুখি 'সিপিএম' ও 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'! উত্তেজনা দুর্গাপুরে
নিউজ১ অডিও ভয়েস: এই খবরটি শুনুন
মুখোমুখি 'সিপিএম' ও 'বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী'! উত্তেজনা দুর্গাপুরে — ছবি: নিউজ১।